নির্দেশনা
ট্যামসুলােসিন হাইড্রোক্লোরাইড বিনাইন প্রােস্টেটিক হাইপারপ্লাসিয়া ( বিপিএইচ )- এর কার্যকরী লক্ষণসমূহের চিকিৎসায় নির্দেশিত ।
Composition
ফার্মাকোলজি
ট্যামসুলােসিন একটি সিলেকটিভ আলফা১ রিসেপটর প্রতিবন্ধক । এটি মানুষের প্রোস্টেট গ্রন্থিতে অবস্থিত আলফা১ এ এড্রেনোসেপটরের প্রতি সিলেকটিভিটি প্রদর্শন করে । এসব এড্রেনোসেপটরের প্রতিবন্ধকতার ফলে মূত্রথলির নীচের অংশ এবং প্রোস্টেট গ্রন্থির বৃত্তাকার পেশী শিথিল হয় । এর ফলে মূত্র প্রবাহের হার বৃদ্ধি পায় এবং বি পি এইচ এর লক্ষণ হ্রাস পায় । খালি পেটে খাওয়ার পর ট্যামসুলােসিন হাইড্রোক্লোরাইড ০ . ৪ মিঃগ্রাঃ ক্যাপসুল প্রায় সম্পূর্ণরূপে ( ৯০ %) পরিশোষিত হয় । খালি পেটে খাওয়ার পর চার থেকে পাঁচ ঘন্টার মধ্যে ঔষধটি রক্ত রসে সর্বোচ্চ ঘণত্বে পৌছে এবং খাবারের সাথে গ্রহণ করলে ছয় থেকে সাত ঘন্টা সময় লাগে । ট্যামসুলােসিন হাইড্রোক্লোরাইড অতিমাত্রায় ( ৯৪ % থেকে ৯৯ %) রক্তরসের আমিষের সাথে আবদ্ধ থাকে । যকৃতে সাইটোক্রোম পি ৪৫০ এনজাইম দ্বারা ট্যামসুলােসিন হাইড্রোক্লোরাইডের বিপাক ব্যাপকভাবে সাধিত হয় এবং ১০ % এর মতো ঔষধ অপরিবর্তিত অবস্থায় মূত্রের মাধ্যমে নির্গত হয় । মুখে সেবনের কিংবা শিরাপথে প্রয়োগের ক্ষেত্রে ট্যামসুলােসিন হাইড্রোক্লোরাইডের এবং এর মডিফাইড রিলিজ ফার্মাকোকাইনেটিক ফরমূলার ক্ষেত্রে এর অর্ধজীবন প্রায় ৯ থেকে ১৩ ঘন্টা এবং রোগীর দেহে এর অর্ধজীবন ১৪ থেকে ১৫ ঘন্টা।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রতিদিন রাতে খাবার গ্রহণ করার পর ট্যামসুলােসিন হাইড্রোক্লোরাইড ০.৪ মিগ্রা (১টি ক্যাপসুল) সেবন করতে হবে। প্রয়ােজনে ২ থেকে ৪ সপ্তাহ পর মাত্রা ট্যামসুলােসিন হাইড্রোক্লোরাইড ০.৮ মিগ্রা (২টি ক্যাপসুল) দিনে একবার পর্যন্ত বাড়ানাে যেতে পারে। যদি ট্যামসুলােসিন হাইড্রোক্লোরাইড ০.৪ মিগ্রা অথবা ০.৮ মিগ্রা মাত্রা সেবন কয়েক দিনের জন্য বন্ধ করা হয় অথবা বিঘ্নিত হয়, তাহলে পুনরায় চিকিৎসার ক্ষেত্রে ট্যামসুলােসিন হাইড্রোক্লোরাইড ০.৪ মিগ্রা (১টি ক্যাপসুল) দিনে একবার মাত্রায় শুরু করা উচিত। দাঁড়ানাে অথবা বসা অবস্থায় সম্পূর্ণ ক্যাপসুল ১ গ্লাস পানি (১৫০ মিলি-এর সমতুল্য) -এর সাথে সেবন করা উচিত। কার্যকরী উপাদানের মােডিফাইড রিলিজ গুণাগুণের ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনার কারণে ক্যাপসুল ভেঙ্গে বা চিবিয়ে খাওয়া উচিত নয়।
প্রতিনির্দেশনা
যে সমস্ত রোগীর ট্যামসুলােসিন এর প্রতি অতিসংবেদনশীলতা, অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন, যকৃতের অপ্রতুলতার ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি বিরূপ নির্দেশিত। অন্যান্য আলফা১ ব্লকারের মত ট্যামসুলােসিন দ্বারা চিকিৎসার ক্ষেত্রে রক্ত চাপ কমতে পারে, খুবই কম সংখ্যক ক্ষেত্রে মূর্ছা যাবার ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশনের লক্ষণ (মাথা ঘোরা, দূর্বল লাগা) দেখা দিলে সাথে সাথে বসে কিংবা শুয়ে পড়তে হবে যতক্ষণ না অবস্থা স্বাভাবিক হয়। গাড়ী চালানো, যন্ত্রপাতি চালানো কিংবা যে কোন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ যে ক্ষেত্রে মূর্ছা গেলে বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে তা পরিহার করা উচিত। ট্যামসুলােসিন দিয়ে চিকিৎসা শুরু করার পূর্বে বিপিএইচ এর মত একই রকম লক্ষণ দেখা দেয় এমন রোগের অনুপস্থিতি সম্বন্ধে নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে। তাই চিকিৎসা শুরুর আগে এবং পরে নিয়মিত ডিজিটাল রেকটাল এগজামিনেশন এবং যখন প্রয়োজন পি.এস.এ করে দেখতে হবে।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
ট্যামসুলােসিন ব্যবহারে নিম্নলিখিত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলাে বিবৃত হয়েছেঃ ঝিমুনী, অস্বাভাবিক ইজাকুলেশন এবং মাঝে মাঝে মাথাব্যথা, অস্থিরতা, পসচিউরাল নিম্ন রক্তচাপ এবং বুক ধড়ফড়।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে ট্যামসুলােসিন হাইড্রোক্লোরাইড নির্দেশিত নয়।
সতর্কতা
প্রথম মাত্রা সেবন করার পর অর্থোস্টেটিক প্রােভােকেশন পরীক্ষার সময় ক্ষণস্থায়ী পসচিউরাল লক্ষণসমূহ মাঝে মাঝে ঘটে। মিকচুরেশন সিনকোপ আছে এমন রােগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার উপদেশিত নয়। গাড়ী চালনা এবং যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ক্ষমতার উপর প্রভাব: ট্যামসুলােসিন-এর গাড়ী চালনা অথবা যন্ত্রপাতি ব্যবহারের উপর ক্ষতিকর প্রভাব আছে এমন কোন তথ্য নেই। তদুপরি, এই ক্ষেত্রে রােগীদের সজাগ থাকতে হবে যে, ঝিমুনী হতে পারে।
থেরাপিউটিক ক্লাস
BPH/ Urinary retention/ Urinary incontinence