নির্দেশনা
হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা : সোরাফেনিব অ্যাডভান্সড রেনাল সেল কার্সিনোমায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় নির্দেশিত। রেনাল সেল কার্সিনোমা : সোরাফেনিব আনরিসেক্টেবল হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় নির্দেশিত।
Composition
ফার্মাকোলজি
সোরাফেনিব একটি কাইনেজ ইনহিবিটর যা টিউমার কোষের বিস্তারকে কমিয়ে দেয়। সোরাফেনিব বহুবিধ আভ্যন্তরীন কোষ (CRAF, BRAF এবং mutant BRAF) এবং কোষের আবরনের কাইনেজ (KIT, FLT-3, RET, VEGFR-1, VEGFR-2, VEGFR-3 এবং PDGFR-β) কে বাধা দেয়। ধারনা করা হয়ে থাকে যে কতিপয় এসকল কাইনেজ টিউমার কোষের সিগনালিং, অ্যানজিওজেনেসিস এবং অ্যাপোপটোসিসে জড়িত। সোরাফেনিব ইমিউনোকম্প্রোমাইসড় মাইস এর ক্ষেত্রে টিউমারের বিস্তার এবং হিউম্যান হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা এবং রেনাল সেল কার্সিনোমা এর ক্ষেত্রে কোষের বৃদ্ধি এবং অ্যানজিওজেনেসিস এবং অন্যান্য হিউম্যান টিউমার জেনোগ্রাফটস কে বাধা দেয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
সোরাফেনিব এর অনুমোদিত সেবন মাত্রা হল প্রতিদিন ৪০০ মিগ্রা ট্যাবলেট করে দুই বেলা খালি পেটে (খাবারের ১ ঘন্টা পূর্বে অথবা খাবারের ২ ঘন্টা পরে)। ক্লিনিক্যাল সুবিধা না পাওয়া পর্যন্ত বা কোন বিষক্রিয়া না ঘটা পর্যন্ত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। ওষুধের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে সোরাফেনিবের ডোজ বন্ধ করতে হবে অথবা কমিয়ে দিতে হবে। ডোজের পরিমান কমানো অপরিহার্য হলে সেক্ষেত্রে সোরাফেনিবের ডোজ কমিয়ে ৪০০ মিগ্রা করে প্রতিদিন এক বেলা করতে হবে। যদি অতিরিক্ত ডোজ কমাতে হনা, সেক্ষেত্রে সোরাফেনিবের ডোজ হবে ৪০০ মিগ্রা করে এক বেলা একদিন অন্তর। রোগীর বয়স, লিঙ্গ এবং ওজনের জন্য ডোজের সমন্বয়ের কোন প্রয়োজন নেই। মিসড ডোজ : যদি সোরাফেনিবের ডোজ মিস হয়ে যায় সেক্ষেত্রে ঐ ডোজ বাদ দিয়ে পরবর্তী ডোজ যথা সময়ে নিতে হবে। সোরাফেনিবের ডাবল ডোজ নেয়া যাবে না।
প্রতিনির্দেশনা
যে সকল রোগীদের সোরাফেনিব এবং এর উপাদানের উপর অধিক সংবেদনশীল তাদের ক্ষেত্রে সোরাফেনিবের ব্যবহার প্রতিনির্দেশিত। স্কোয়ামাস কোষ ফুসফুস ক্যান্সারের রোগীদের ক্ষেত্রে কার্বোপ্লাটিন এবং প্যাকলিট্যাক্সেল এর সাথে সোরাফেনিবের ব্যবহার প্রতিনির্দেশিত।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
বিরূপ প্রতিক্রিয়া গুলো হলো হৃৎপিও সংরক্ষনীয় রক্তস্বল্পতা, ইনফার্কশন, রক্তস্রাব, উচ্চ রক্তচাপ, হাত ও পায়ের ত্বকের প্রতিক্রিয়া এবং ফোস্কা পরা, পরিপাকতন্ত্রের ছিদ্র হওয়া, ক্ষত নিরাময়ে জটিলতা ।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
সোরাফেনিবের কার্যকারীতা এবং অ্যানিমেল ডাটা থেকে দেখা যায় যে, সোরাফেনিব গর্ভবর্তী মহিলাদের ভ্রূনের মারাত্মক ক্ষতি করে থাকে। সোরাফেনিব চলাকালীন অবস্থায় মহিলাদের গর্ভধারন থেকে বিরত থাকতে হবে। সোরাফেনির মাতৃদুগ্ধে নিঃসৃত হয় কিনা তা অজানা।
সতর্কতা
হৃৎপিণ্ড সংবন্ধনীয় রক্তস্বল্পতা, ইনফার্কশন : যে সকল রোগীর হৃৎপিণ্ড সংবন্ধনীয় রক্তস্বল্পতা এবং ইনফার্কশন তৈরী হয় তাদের ক্ষেত্রে সোরাফেনিবের ব্যবহার সাময়িক অথবা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। রক্তস্রাবের ঝুঁকি : সোরাফেনিব সেবনে রক্তপাত বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। আরসিসি স্টাডি ১ এর প্রতিটি গ্রুপে একটি করে মারাত্মক রক্তস্রাবের ঘটনা দেখা গেছে। যদি রক্তপাত হয় তাহলে প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল ইন্টারভেনশন নিতে হবে এবং সোরাফেনিবের ব্যবহার স্থায়ী ভাবে বন্ধ করে দিতে হবে। উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি : সোরাফেনিব-ট্রিটেড রেগীদের ক্ষেত্রে এইসসিসি স্টাডিতে উচ্চ রক্তচাপ রিপোর্ট হয়েছে ৯.৪% এবং আরসিসি স্টাডিতে উচ্চ রক্তচাপ রিপোর্ট হয়েছে ১৬.৯%। উচ্চ রক্তচাপের থেরাপী নেয়া সত্ত্বেও যদি মারাত্মক এবং ক্রমাগত উচ্চ রক্তচাপ হয় সে ক্ষেত্রে সোরাফেনিবের ব্যবহার সাময়িক অথবা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। ত্বকের বিষক্রিয়ার ঝুঁকি : সোরাফেনিব ব্যবহারে সাধারন বিরূপ প্রতিক্রিয়ার চিহ্ন হল হাত ও পায়ের ত্বকের প্রতিক্রিয়া এবং ফোস্কা পরা। পরিপাকতন্ত্রের ছিদ্র হওয়ার ঝুঁকি : পরিপাকতন্ত্রের ছিদ্র হলে সোরাফেনিবের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ওয়ারফারিনের কো-অ্যাডমিনিষ্ট্রেশন : যে সকল রোগী সাথে ওয়ারফারিন নিয়ে থাকে তাদের ক্ষেত্রে নিয়মিত প্রথ্রোম্বিন সময় আইএনআর অথবা রক্তপাতের ঘটনা প্রবাহ মনিটর করতে হবে। ক্ষত নিরাময়ে জটিলতা : গুরুত্বপূর্ণ সার্জিক্যাল অপারেশনের পরে ক্ষত নিরাময়ের পর্যায় ক্লিনিক্যাল আলোচনার প্রেক্ষিতে পূণরায় সোরাফেনিবের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কোষ ফুসফুস ক্যান্সারে কার্বোপ্রাটিন এবং প্যাকপিট্যাক্সেল এর সাথে সোরাফেনিবের ব্যবহার : কার্বোপ্লাটিন এবং প্যাকলিট্যাক্সেল এর সাথে সোরাফেনিবের ব্যবহারে স্কোয়ামাস কোষ কার্সিনোমা রোগীদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার অনেক বেশী দেখা গেছে। ইউজিটি ১এ১ এর উপাদানের সাথে ক্রিয়া : যে সকল ওষুধ ইউজিটি ১এ১ এর সাবস্ট্রেট, সোরাফেনিব তাদের প্লাজমা ঘনত্ব বাড়িয়ে দিতে পারে। ডসিট্যাক্সেল ও ডক্সোরবিসিন এর সাথে ক্রিয়া : সোরাফেনিব ডসিট্যাক্সেল ও ডক্সোরবিসিন এর প্লাজমা ঘনত্ব বাড়িয়ে দিতে পারে। যকৃতের অকার্যকারীতায় : যকৃতের অকার্যকারীতা সোরাফেনিবের প্লাজমা ঘনত্ব কমিয়ে দিতে পারে। নিওমাইসিন : মুখে সেব্য নিওমাইসিন এর সাথে ব্যবহারে সোরাফেনিবের প্রভাব কমে যায়।
থেরাপিউটিক ক্লাস
Targeted Cancer Therapy