নির্দেশনা
মূত্রথলির অতিকার্যকারিতা আছে এমন রোগীর জরুরীভাবে মূত্র বেগধারনের অক্ষমতা এবং/অথবা ঘনঘন মূত্রত্যাগ এবং মূত্রত্যাগের জরুরীভাবের লক্ষন-এর চিকিৎসায় সলিফেনাসিন নির্দেশিত।
Composition
ফার্মাকোলজি
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক, অধিক বয়স্কসহ : নির্দেশিত মাত্রা হচ্ছে সলিফেনাসিন সাক্সিনেট ৫ মিগ্রা দিনে একবার। প্রয়োজনানুসারে দিনে একবার সলিফেনাসিন সাক্সিনেট ১০ মিগ্রা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যাবে। শিশু এবং কিশোর : নিরাপত্তা এবং ফলপ্রসুতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সুতরাং সলিফেনাসিন সাক্সিনেট শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার নির্দেশিত নয়।
প্রতিনির্দেশনা
সলিফেনাসিনের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা, ইউরিনারী রিটেনশন, মারাত্মক পরিপাকতন্ত্রজনিত সমস্যা (টক্সিক মেগাকোলন সহ), মাইয়াসথেনিয়া গ্র্যাভিস অথবা ন্যারো-এঙ্গেল গ্লুকোমা, হেমোডায়ালাইসিসের রোগী, তীব্র যকৃত অকার্যকরী রোগী, তীব্র বৃক্ক অকার্যকরী রোগী অথবা মাঝারী ধরনের যকৃত অকার্যকরী রোগী এবং যে সমস্ত রোগীরা শক্তিশালী সাইটোক্রোম পি৪৫০ ৩এ৪ ইনহিবিটর যেমন কিটোকোনাজল দ্বারা চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রে সলিফেনাসিন ব্যবহার নিষিদ্ধ।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
সলিফেনাসিনের ফার্মাকোলজিক্যাল প্রভাবের কারনে, ইহা মৃদু থেকে মাঝারী ধরনের অনাকাঙ্খিত এ্যান্টিকোলিনার্জিক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে। এই অনাকাঙ্খিত এ্যান্টিকোলিনার্জিক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার তীব্রতা মাত্রার উপর নির্ভরশীল। সলিফেনাসিনের সবচেয়ে বেশী পরিলক্ষিত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হচ্ছে মুখ শুকিয়ে যাওয়া। দৈনিক ৫ মিগ্রা গ্রহণকারী রোগীদের মধ্যে ১১%, দৈনিক ১০ মিগ্রা গ্রহণকারী রোগীদের মধ্যে ২২% এবং প্লাসেবো গ্রহণকারী রোগীদের মধ্যে ৪% এর ক্ষেত্রে এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছিল। মুখ শুকিয়ে যাওয়ার এই প্রকোপ ছিল সাধারণত মৃদু মাত্রার এবং চিকিৎসা বন্ধ করার মত ঘটনা খুবই বিরল ক্ষেত্রে ঘটেছে। চিকিৎসা চলাকালীন রোগীদের ওষুধ সম্পর্কিত সন্তুষ্টি ছিল খুবই বেশী (প্রায় ৯৯%) এবং প্রায় ৯০% রোগী সলিফেনাসিন-এর ১২ সপ্তাহের চিকিৎসা সম্পর্কিত পরীক্ষা সম্পন্ন করে। পরিপাকতন্ত্র জনিত সমস্যা : বেশী পরিলক্ষিত- মুখ শুকিয়ে যাওয়া, পরিলক্ষিত কোষ্ঠ কাঠিন্য, বমি বমি ভাব, বদ হজম, তলপেটে ব্যথা, অপরিলক্ষিত গ্যাষ্টোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজেজ, গলদেশ শুকিয়ে যাওয়া, বিরল- বাধাগ্রস্থ কোলন, মলের অবরুদ্ধতা, খুবই বিরল বমি করা। পরজীবি দ্বারা সংক্রমন : অপরিলক্ষিত- মুত্রনালীতে রোগ জীবানুর সংক্রমন, মুত্রাশয় প্রদাহ। স্নায়ুতন্ত্র জনিত সমস্যা : অপরিলক্ষিত- নিদ্রালুতা, বিকৃত আস্বাদ, খুবই বিরল- মস্তক ঘূর্নন, মাথা ব্যথা। মনস্তাত্বিক সমস্যা : খুবই বিরল-ভ্রম দৃষ্টি। চক্ষু জনিত সমস্যা : পরিলক্ষিত ঝাপসা দেখা, অপরিলক্ষিত- চোখ শুকিয়ে যাওয়া। সাধারন সমস্যা এবং প্রয়োগকৃত স্থানের অবস্থা : অপরিলক্ষিত অবসাদগ্রস্থ, পেরিফেরাল এডেমা। শ্বসনতন্ত্রজনিত, থোরাসিক এবং মিডিয়াষ্টাইনাল ডিজঅর্ডার : অপরিলক্ষিত- নাসিকা শুকিয়ে যাওয়া। চর্ম এবং সাবকিউটানিয়াস টিস্যু ডিজঅর্ডার : অপরিলক্ষিত- শুষ্ক ত্বক, খুবই বিরল প্রুরাইটিস, র্যাশ, আর্টিক্যারিয়া। বৃক্ক এবং প্রসাব জনিত সমস্যা : অপরিলক্ষিত প্রসাবকরন জনিত জটিলতা, বিরল-ইউরিনারী রিটেনশন।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
কোন মহিলার গর্ভবতী অবস্থায় সলিফেনাসিন গ্রহনের কোন ক্লিনিক্যাল তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রাণীদেহে পরীক্ষায় গর্ভবতী হওয়া, ভ্রুন/ভ্রুণসংক্রান্ত বৃদ্ধি অথবা প্রসবজনিত কোন সরাসরি ক্ষতিকর প্রভাব নির্দেশ করেনা। মানবদেহে এর কোন সম্ভাব্য ঝুঁকি জানা নেই। গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে ব্যবহারে সতর্ক থাকা উচিত। সলিফেনাসিন মাতৃদুগ্ধে নিঃসৃত হয় কিনা এমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। ইঁদুরের ক্ষেত্রে সলিফেনাসিন এবং অথবা এর মেটাবোলাইট মাতৃদুগ্ধে নিঃসৃত হয়েছিল এবং সদ্যজাত ইঁদুরের অবস্থার উন্নতির ক্ষেত্রে মাত্রা নির্ভরশীল ব্যর্থতা ঘটেছে। তাই মাতৃদুগ্ধদানকালে সলিফেনাসিনের ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত ৷
সতর্কতা
সলিফেনাসিন সাক্সিনেট দ্বারা চিকিৎসার পূর্বে ঘনঘন মূত্রত্যাগের অন্যান্য কারন (হৃদযন্ত্রের অকার্যকরীতা অথবা বৃক্কে রোগ) পরীক্ষা করে নেয়া উচিত। যদি মূত্রনালির সংক্রমন থাকে তাহলে সঠিক এ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল দ্বারা চিকিৎসা শুরু করা উচিত। যে সকল রোগীদের মূত্রথলির বর্হিপথে বাধা জনিত মূত্রগত অবরোধের ঝুঁকি আছে, পাকস্থলির অবরোধজনিত সমস্যা আছে, পাকস্থলির হ্রাসকৃত সঞ্চালনের ঝুঁকি আছে, তীব্র বৃক্ক অকার্যকরীতা (ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স ≤৩০ মিলি/মিনিট) এবং মাঝারী ধরনের যকৃত অকার্যকরীতা (চাইল্ড-পাফ স্কোর ৭ থেকে ৯) আছে তাদের ক্ষেত্রে সলিফেনাসিস সাক্সিনেট সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত এবং এই সকল রোগীদের ক্ষেত্রে এবং মাত্রা দৈনিক ৫ মিগ্রা এর বেশী অতিক্রম করা উচিত নয়। একই সাথে কোন শক্তিশালী সাইটোক্রোম পি৪৫০ ৩এ৪ ইনহিবিটর যেমন: কিটোকোনাজল নিচ্ছেন, হাইটাস হার্ণিয়া আছে এবং / গ্যাস্ট্রোএসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স / অথবা যারা একইসাথে বিসফসফোনেট জাতীয় ওষুধ খাচ্ছেন যা ইসোফেগাসের প্রদাহ, অটোনমিক নিউরোপ্যাথির কারণ হতে পারে বা বাড়িয়ে দিতে পারে তাদের ক্ষেত্রে সলিফেনাসিস সাক্সিনেট সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত। নিউরোজেনিক কারনে ডেট্রুসর অতিকার্যকরীতার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং ফলপ্রসুতা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। যে সকল রোগীদের বিরল বংশগত গ্যালাকটোজ ইনটলারেন্স জাতীয় সমস্যা, ল্যাপ ল্যাকটোজ ঘাটতি অথবা গ্লুকোজ গ্যালাকটোজ এর অপর্যাপ্ত শোষন জাতীয় সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে এই ওষুধটি গ্রহণ করা উচিত নয়। সলিফেনাসিন সাক্সিনেটের সর্বোচ্চ প্রভাব তাড়াতাড়ি হলেও ৪ সপ্তাহের পর নির্ণয় করা যাবে।
থেরাপিউটিক ক্লাস
Anticholinergics (antimuscarinics)/ Anti-spasmodics, BPH/ Urinary retention/ Urinary incontinence