নির্দেশনা
প্রোপানথেলিন ব্রোমাইড নিম্নোক্ত রোগের চিকিৎসায় নির্দেশিত- পেপটিক আলসার-এর চিকিৎসায় সংযুক্ত থেরাপির অংশ হিসেবে (গ্যাস্ট্রিক ও ডিওডেনাল) গ্যাস্ট্রাইটিস এর লক্ষণ উপশমে (পাকস্থলীর সমস্যা, অন্ত্রের রক্তক্ষরণ, বমিতে রক্তাভাব, মলে রক্তাভাব, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা) ডায়রিয়া সংক্রান্ত ইরিট্যাবল বাওয়েল সিনড্রোম এর লক্ষণসমূহের চিকিৎসায় (কোলনের প্রদাহ ও ফোলাভাব, অ্যাকিউট এন্টারোকোলাইটিস, পরিপাকতন্ত্রের অকার্যকারিতা ইত্যাদি) ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স লালা নিঃসরণ এবং অ্যানিউরেসিস নিয়ন্ত্রণে ল্যাক্টোজ ইন্টোলারেন্স এর উন্নতি সাধনে অতিরিক্ত ঘাম (হাইপারহাইড্রসিস) প্রতিরোধে।
Composition
ফার্মাকোলজি
প্রোপানথেলিন ব্রোমাইড দুইভাবে কাজ করে। এসিটাইলকোলিন রিসেপ্টরে নির্দিষ্ট এন্টিকোলিনার্জিক তথা এন্টিমাসকারিনিক প্রভাব। মসৃন পেশীর উপর সরাসরি মাসকুলেট্রপিক প্রভাব। এই ওষুধটি একটি মাসকারিনিক এন্টাগোনিস্ট যা এন্টিস্পাস্মোডিক ধর্ম প্রদর্শন করে। এটি মসৃণ পেশীর এসিটাইলকোলিন রিসেপ্টরের সাথে সংযুক্ত হয়ে স্নায়ু হতে নিঃসরিত কেমিক্যাল এসিটাইলকোলিনের প্রভাব কমায়, যা পেশীর উদ্দীপনার জন্য দায়ী। মসৃণ পেশীর উপর এর সরাসরি শিথিলকারক প্রভাব রয়েছে। এছাড়া প্রোপানথেলিন পরিপাকতন্ত্রের সক্রিয়তা কমায়, ফলে গ্যাস্ট্রিক এসিডের নিঃসরন হ্রাস পায় এবং অতিরিক্ত ফ্যারিঞ্জিয়াল, ট্রাকিয়াল এবং ব্রঙ্কিয়াল নিঃসরনও কমে আসে। অগ্ন্যাশয়, ঘর্মগ্রন্থি এবং লালাগ্রন্থির নিঃসরনও হ্রাস পেয়ে থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রোপানথেলিন ব্রোমাইড এর প্রাথমিক মাত্রা দৈনিক ৭৫ মি.গ্রা.। প্রতিবার খাওয়ার ৩০ মিনিট পূর্বে ১টি ট্যাবলেট সেবন করতে হবে (১৫ মি.গ্রা. প্রতিদিন তিনবার)। দুটি ট্যাবলেট শোবার আগে সেবন করতে হবে। রোগীর প্রতিক্রিয়া এবং সহ্যক্ষমতা ভেদে সেবনবিধি নির্ধারন করা যেতে পারে। তবে দৈনিক সর্বোচ্চ মাত্রা ১২০ মি.গ্রা. অতিক্রম করা উচিত নয়। শিশুদের ক্ষেত্রেঃ শিশুদের ক্ষেত্রে প্রোপানথেলিন ব্রোমাইডের ব্যবহার সম্পর্কে কোন প্রতিষ্ঠিত তথ্য নেই।
প্রতিনির্দেশনা
প্রোপানথেলিন ব্রোমাইড নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে প্রতিনির্দেশিত- প্রোপানথেলিন ব্রোমাইড অথবা এন্টিকোলিনার্জিক সমূহের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা গ্লুকোমা পরিপাকতন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা সংক্রান্ত রোগসমূহ (যেমন- পাইলোরোডিওডেনাল স্টেনোসিস, প্যারালাইটিক ইলিয়াস) মূত্রনালির প্রতিবন্ধকতা (প্রোস্টেটিক হাইপারট্রফি), বয়স্কদের অস্ত্রের এটোনি মাইয়েসথেনিয়া গ্রাভিস।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
প্রোপানথেলিন ব্রোমাইডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াসমূহ মাত্রানির্ভর এবং চিকিৎসা বন্ধের সাথে অন্তর্হিত হয়। বিভিন্ন মাত্রায় মুখ ও ত্বকের শুষ্কতা এবং মাইড্রিয়াসিস লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া ইউরিনারি রিটেনশন, বমি বমি ভাব, বমি, কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথাব্যথা, স্নায়ুবিক দুর্বলতা, দ্বিধাভাব ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
প্রোপানথেলিন ব্রোমাইড প্রেগন্যান্সি ক্যাটাগরি সি। গর্ভবর্তী প্রানীর উপর প্রোপানথেলিন ব্রোমাইড প্রয়োগ করা হয়নি। তবে এটি কেবলমাত্র সুনির্দিষ্টভাবে প্রয়োজন হলেই গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা উচিত। ওষুধ মাতৃদুগ্ধের সাথে নিঃসৃত হয় কিনা তার কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। যেহেতু অনেক ওষুধ মাতৃদুগ্ধে নিঃসৃত হয় তাই স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত তবে এন্টিকোলিনার্জিক ওষুধ সমূহ মাতৃদুগ্ধের নিঃসরণ কমাতে পারে।
সতর্কতা
বয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রোপানথেলিন ব্রোমাইড সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত। এছাড়া অটোনমিক নিউরোপ্যাধি, লিভার ও কিডনী সমস্যা, হাইপারথাইরয়ডিজম, করোনারী হার্ট ডিজিস, কনজেসটিভ হার্ট ফেইলিউর, কার্ডিয়াক ট্যাকি অ্যারিদমিয়া, হাইপারটেনশনে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত, কারণ এন্টিকোলিনার্জিকসমূহ এসকল অবস্থাকে গুরুতর করে থাকে।
থেরাপিউটিক ক্লাস
Anticholinergics (antimuscarinics)/ Anti-spasmodics