নির্দেশনা
যেসব প্রাপ্তবয়স্কদের মৃদু থেকে মাঝারী ইডিওপ্যাথিক পালমোনারি ফাইব্রোসিস (আইপিএফ) রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে পিরফেনিডোন নির্দেশিত।
Composition
ফার্মাকোলজি
পিরফেনিডোন হল প্রদাহ বিরোধী, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিফাইব্রোটিক বৈশিষ্ট্য সহ একটি অভিনব এজেন্ট। এটি ফুসফুসের কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে এবং ইডিওপ্যাথিক পালমোনারি ফাইব্রোসিস (আইপিএফ) রোগীদের মধ্যে একিউট এক্সাসারবেশনের সংখ্যা কমাতে পারে। পিরফেনিডোনের ক্রিয়াকলাপের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এবং এর নির্দিষ্ট আণবিক লক্ষ্যগুলি এখনও ব্যাখ্যা করা হয়নি। একটি অত্যাবশ্যক অ্যান্টি-ফাইব্রোটিক মেকানিজমের মধ্যে রয়েছে টিজিএফ-বেটা১ (ট্রান্সফর্মিং গ্রোথ ফ্যাক্টর-বেটা১) দমন করা, ফাইব্রোজেনেসিস এবং এক্সট্রা সেলুলার ম্যাট্রিক্স উৎপাদনে জড়িত একটি মূল সাইটোকাইন। টিএনএফ -আলফা, ইন্টারলিউকিন-১, এবং ইন্টারফেরন গামা সহ শক্তিশালী প্রো-ইনফ্ল্যামেটরি সাইটোকাইনগুলির প্রকাশকে কমিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা পিরফেনিডোনের রয়েছে বলে পরামর্শ দেওয়ারও প্রমাণ রয়েছে। প্রাণীর মডেলে, পিরফেনিডোন প্রদাহজনক কোষের প্রবাহ এবং ব্লোমাইসিন দ্বারা প্ররোচিত পালমোনারি ভাস্কুলার ব্যাপ্তিযোগ্যতা উভয়কেই বাধা দিতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
সেবনবিধি : খাবার গ্রহণের পর পিরফেনিডোন মুখে সেবন করতে হবে। সেবন মাত্রা : যেসব চিকিৎসক রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসায় আইপিএফ বিশেষজ্ঞ তাদের দিয়ে বিশেষ তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে পিরফেনিডোন দিয়ে চিকিৎসা করতে হবে। প্রাপ্তবয়স্ক : চিকিৎসার প্রারম্ভিক পর্যায়ে ডোজ টাইট্রেশন করার পরামর্শ দেয়া হয় দিনে ৯টি ২৬৭ মি.গ্রা. ট্যাবলেট অথবা ৩টি ৮০১ মি.গ্রা. প্রতিদিন, ১৪ দিন এর মেয়াদে যা নিম্নরূপঃ ১ম-৭ম দিন পর্যন্ত : ১টি ২৬৭ মি.গ্রা. ট্যাবলেট দৈনিক তিনবার (৮০১ মি.গ্রা./দিন) ৮ম-১৪তম দিন পর্যন্ত : ২টি ২৬৭ মি.গ্রা. ট্যাবলেট অথবা ১টি ৫৩৪ মি.গ্রা. ট্যাবলেট দৈনিক তিনবার (১৬০২ মি.গ্রা./দিন) ১৫তম ও ততোধিক : ৩টি ২৬৭ মি.গ্রা. ট্যাবলেট অথবা ১টি ৮০১ মি.গ্রা. ট্যাবলেট দৈনিক তিনবার (২৪০৩ মি.গ্রা./দিন) পরামর্শ দেয়া হয়, দৈনিক ডোজের ক্ষেত্রে পিরফেনিডোন যাদের আইপিএফ আছে তিনটি ২৬৭ মি.গ্রা. ট্যাবলেট অথবা ১টি ৮০১ মি.গ্রা. ট্যাবলেট দিনে তিনবার করে খাবারের সাথে যা মোট ২৪০৩ মি.গ্রা./ দিন ব্যবহার্য। ২৪০৩ মি.গ্রা./ দিন এর বেশি ডোজ কোন রোগীর জন্য সুপারিশকৃত নয়। পিরফেনিডোন চিকিৎসায় যেসব রোগীর ১৪ দিন বা অধিক ডোজ বাদ পড়বে সেসব ক্ষেত্রে প্রাথমিক ২ সপ্তাহ টাইট্রেশন ডোজ ব্যবহার করে তারপর দৈনিক ডোজে ব্যবহার করতে হবে। ১৪ দিনের কম ডোজ বাদ পড়লে কোন টাইট্রেশন ছাড়াই সুপারিশকৃত দৈনিক ডোজ ব্যবহার করা যাবে। মাত্রা সমন্বয় এবং নিরাপদ ব্যবহারের বিবেচ্য বিষয় : পরিপাকতন্ত্র বিষয়ক: যেসব রোগীর পরিপাকতন্ত্রীয় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্য থেরাপী অসহনীয় হয় তাদের ক্ষেত্রে ঔষধ খাবারের সাথে গ্রহণ করতে হয়। যদি তবুও উপসর্গ দেখা যায় তবে পিরফেনিডোনের ১ থেকে ২ টি ট্যাবলেট (২৬৭ মি.গ্রা. থেকে ৫৩৪ মি.গ্রা.) যা দিনে ২ থেকে ৩ বার খাবার পর গ্র্রহণ করতে হয়, যা পুনরায় দৈনিক ডোজে যেতে সুসহনীয় মাত্রায় তীব্র্রতা বৃদ্ধি করতে হবে। যদি তবুও উপসর্গ থাকে তবে রোগীকে ১ থেকে ২ সপ্তাহের জন্য চিকিৎসা বন্ধ করতে বলা হয় যাতে উপসর্গগুলো দেখা না যায়। আলোক সংবেদনশীলতা অথবা র্যাশ : যেসব রোগীর যাদের মৃদু বা মাঝারি আলোক সংবেদনশীলতা দেখা যায় তাদের সূর্যালোক প্রতিরোধী ক্রিম ব্যবহার করা উচিত এবং সূর্যের আলো এড়িয়ে চলতে হবে। ডোজ কমিয়ে ৩টি ২৬৭ মি.গ্রা. ট্যাবলেট প্রতিদিন ব্যবহার করতে বলা হয় (১টি ২৬৭ মি.গ্রা. ট্যাবলেট দিনে ৩ বার)। যদি র্যাশ ৭ দিন পরেও থাকে পিরফেনিডোন ১৫ দিন এর জন্য ব্যবহার বন্ধ রাখতে বলা হয়, পুনঃ তীব্রতা বৃদ্ধি করতে বলা হয় দৈনিক ডোজে পূর্বের নিয়মে যেভাবে তীব্রতা বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছে। যেসব রোগীর তীব্র আলোক সংবেদনশীলতা অথবা র্যাশ দেখা যায় তাদের ডোজ বন্ধ করার পরামর্শ দেয়া হয় এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়। যদি র্যাশ সম্পূর্ণভাবে দূর হয়, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দৈনিক পুনরায় ব্যবহার করতে হবে। হেপাটিক ক্রিয়া : যদি তাৎপর্যপূর্ণ বৃদ্ধি হয় অ্যালানিন বা এসপারটেট অ্যামিনোট্রান্সফারেজ (এএলটি/এএসটি) এর সাথে বিলিরুবিনের মাত্রা পরিবর্তন হয় তবে নিয়মানুযায়ী ডোজ সমন্বয় অথবা চিকিৎসা বন্ধ করতে হবে।
প্রতিনির্দেশনা
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
সাধারণ : বমি বমি ভাব, ফুসকুড়ি, পেটে ব্যথা, উপরের শ্বাসনালীর সংক্রমণ, ডায়রিয়া, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, ডিসপেপসিয়া, মাথা ঘোরা, বমি, অ্যানোরেক্সিয়া, গ্যাস্ট্রো ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ, সাইনোসাইটিস, অনিদ্রা, ওজন হ্রাস এবং আর্থ্রালজিয়া। বিরল : আলোক সংবেদনশীলতা প্রতিক্রিয়া, ক্ষুধা হ্রাস, প্রুরিটাস, অ্যাস্থেনিয়া, ডিসজিউসিয়া এবং নন-কার্ডিয়াক বুকে ব্যথা।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
গর্ভাস্থায় : গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে পিরফেনিডোন ব্যবহারের তেমন কোন ডাটা পাওয়া যায়নি। প্রাণীর অমরায় পিরফেনিডোন স্থানান্তর অথবা বিপাক ঘটে পিরফেনিডোন জমে যেতে পারে এবং বিপাক হয় অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের। উচ্চ ডোজে (১০০০মি. গ্রা./কেজি/দিন) দেখা যায় ইঁদুরের গ্যাস্ট্রোসনের বৃদ্ধি এবং কমে যায় ভ্রুণের স্থায়িত্ব। সতর্কতার পদক্ষেপ হিসেবে গর্ভাস্থায় পিরফেনিডোন ব্যবহার পরিহার করতে বলা হয়। মাতৃদুগ্ধদানকালে ব্যবহার : পিরফেনিডোন এবং এর উপাদান মাতৃদুগ্ধে যায় কিনা তা জানা যায়নি। প্রাণীর ফার্মাকোকাইনেটিকস ডাটায় দেখা যায় পিরফেনিডোন নিঃসরণ অথবা এর উপাদান মাতৃদুগ্ধে পিরফেনিডোন জমতে পারে অথবা মাতৃদুগ্ধে এর উপাদান থাকতে পারে। মাতৃত্বকালীন শিশুর ঝুঁকি এড়ানো যাবে না। একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে মাতৃদুগ্ধ পান করানো হবে অথবা পিরফেনিডোন চিকিৎসা বন্ধ করা হবে, সুবিধাসমূহ বিবেচনা করতে হবে মাতৃদুগ্ধ পানকারী শিশুর এবং পিরফেনিডোন গ্রহণকারী মায়ের। ফার্টিলিটি : পিরফেনিডোন ১০০০ মি.গ্রা./কেজি/দিন পর্যন্ত ডোজে ইঁদুরের ফার্টিলিটি এবং প্রজনন কর্মক্ষমতার উপর কোন প্রভাব ফেলেনি (মি.গ্রা./মি ২ ভিত্তিতে প্রাপ্তবয়স্কদের এমআরডিডি এর প্রায় ৩ গুণ)।
সতর্কতা
উ চ্চ লিভার এনজাইম : এএলটি, এএসটি এবং বিলিরুবিনের মাত্রা পিরফেনিডোনের সাথে বাড়ে। চিকিৎসার আগে এবং সময়কালে এএলটি, এএসটি এবং বিলিরুবিন পর্যবেক্ষণ করুন। অস্থায়ী ডোজ হ্রাস বা বন্ধ করার প্রয়োজন হতে পারে। আলোক সংবেদনশীলতা এবং ফুসকুড়ি : পিরফেনিডোনের সাথে আলোক সংবেদনশীলতা এবং ফুসকুড়ি লক্ষ্য করা গেছে। সূর্যালোক এবং সানল্যাম্পের এক্সপোজার এড়িয়ে চলুন। প্রতিদিন সানস্ক্রিন এবং প্রতিরক্ষামূলক পোশাক পরুন। অস্থায়ী ডোজ হ্রাস বা বন্ধ করার প্রয়োজন হতে পারে। গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ব্যাধি : বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া, ডিসপেপসিয়া, গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ এবং পেটে ব্যথা পিরফেনিডোন ব্যবহারে দেখা দিয়েছে। অস্থায়ী ডোজ হ্রাস বা বন্ধ করার প্রয়োজন হতে পারে।
থেরাপিউটিক ক্লাস
Immunosuppressant