নির্দেশনা
একিউট করোনারী সিন্ড্রোম : ক্লোপিডোগ্রেল বাইসালফেট ট্যাবলেট ননএসটি সেগমেন্ট এলিভেশন একিউট করোনারী সিন্ড্রোম (NSTMI) আক্রান্ত রোগীদের ময়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (MI) এবং স্ট্রোকের হার কমাতে নির্দেশিত। এটি একিউট এসটি এলিভেশন একিউট করোনারী সিন্ড্রোম (STMI) আক্রান্ত রোগীদের মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন এবং স্ট্রোকের হার কমাতে নির্দেশিত। সাম্প্রতিক এমআই, সাম্প্রতিক স্ট্রোক বা প্রতিষ্ঠিত পেরিফেরাল আর্টেরিয়াল ডিজিজ : পেরিফেরাল আর্টারিয়াল ডিজিজ বা সাম্প্রতিক মায়ো-কার্ডিয়াল ইনফার্কশন বা সাম্প্রতিক স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে STMI এবং স্ট্রোকের হার কমাতে ক্লোপিডোগ্রেল বাইসালফেট ট্যাবলেট নির্দেশিত।
Composition
ফার্মাকোলজি
ক্লোপিডোগ্রেল একটি প্রোড্রাগ। ক্লোপিডোগ্রেল এর একটিভ মেটাবোলাইট প্লাটিলেটে অবস্থিত P2Y12 শ্রেণির এডিপি রিসেপ্টরের সাথে স্থায়ী বন্ধন তৈরির মাধ্যমে প্লাটিলেটের সক্রিয় ও একত্রিত হওয়াকে বাঁধা প্রদান করে। একক মাত্রা সেবনের ২ ঘন্টা পরই প্লাটিলেটের মাত্রা ভিত্তিক একত্রিকরণ দেখা যেতে পারে। নিয়মমাফিক প্রতিনিয়ত ৭৫ মিঃগ্রাঃ হিসেবে সেবনে প্রথম দিনেই এডিপি ভিত্তিক প্লেটলেট একত্রিকরণ বন্ধ হয় যা ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী মাত্রায় পৌছায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
একিউট করোনারি সিন্ড্রোম: যে সব রোগীদের কয়েক ঘন্টার মধ্যে এন্টিপ্লাটিলেট কার্যকারীতা প্রয়োজন, তাদের ৩০০ মিঃগ্রাঃ (৪ টি ট্যাবলেট) ক্লোপিডোগ্রেলের একটি লোডিং ডোজ এবং পরবর্তীতে দৈনিক ৭৫ মিঃগ্রাঃ করে সেবন করা উচিত। লোডিং ডোজ ছাড়া সেবন আরম্ভ করলে অ্যান্টি প্লাটিলেট অ্যাকশন পেতে কিছু দিন বিলম্বিত হবে। সাম্প্রতিক এম আই, সাম্প্রতিক স্ট্রোক বা প্রতিষ্ঠিত পেরিফেরাল আর্টারিয়াল ডিজিজ: কোন রকম লোডিং ডোজ ছাড়া দৈনিক ৭৫ মিঃগ্রাঃ সেবনযোগ্য। এটি খাবারের সাথে বা খাবার ছাড়াই মুখে সেবনযোগ্য।
প্রতিনির্দেশনা
নিম্নলিখিত অবস্থাগুলোতে ক্লোপিডাগ্রেল প্রতিনির্দেশিতঃ এই ঔষধ বা এর কোন উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা। সক্রিয় প্যাথোলজিকাল রক্তপাত যেমন পেপটিক আলসার অথবা মস্তিস্কে রক্তপাত।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
ক্লোপিডোগ্রেল সাধারণত বেশ সহনীয়। সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া : রক্তপাত, ডায়রিয়া, উদরে অস্বস্তিবোধ, রক্তক্ষরণ এবং ত্বকে লাল হয়ে যাওয়া। বিরল পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া : রক্ত জমাট বাঁধা, রক্তসল্পতা, এনজিওএডেমা, আর্থ্রালজিয়া, আর্থ্রারাইটিস ও অস্থি মজ্জার ব্যাধি।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ও সুনিয়ন্ত্রিত গবেষণা করা হয়নি। শুধুমাত্র গর্ভাবস্থায় ব্যবহার যর্থাথ মনে হলেই ক্লোপিডোগ্রেল ব্যবহার করা উচিত। মাতৃদুগ্ধে ক্লোপিডোগ্রেল নি:সৃত হয় কিনা তা জানা যায়নি। মায়ের স্বাস্থ্যের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে নার্সিং বন্ধ বা ঔষধ সেবন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সতর্কতা
যেহেতু এটি একটি প্রোড্রাগ, তাই এটির মেটাবলিজমের মাধ্যমে সক্রিয় উপাদানে পরিণত হতে CYP2C19 এর জিনগত পরিবর্তন এবং যে সকল ঔষধ যেমনঃ ওমিপ্রাজল বা ইসোমিপ্রাজল CYP2C19 কে বাঁধা প্রদান করে। তাই এ সকল ঔষধের সাথে একত্রে সেবনের ফলে অথবা CYP2C19 ক্রটিপূণ মেটাবোলাইজর ক্লোপিডোগ্রেলের এন্টি প্লাটিলেট কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। যেহেতু এটি প্লাটিলেটের জীবন কাল ব্যাপী (৭-১০দিন) প্লাটিলেট একত্রিত করনকে বাঁধা দেয়, তাই রক্ত ক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। রক্তক্ষরণ বন্ধের লক্ষ্যে প্লাটিলেট ট্রান্সফিউশন লোডিং ডোজের ৪ ঘন্টার মধ্যে বা মেইনটেন্যান্স ডোজের ২ ঘন্টার মধ্যে কম কার্যকর হতে পারে। ক্লোপিডোগ্রেল সেবন বন্ধের ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। রক্ত ক্ষরণের বড় ধরনের ঝুঁকি প্রতিরোধে ইলেক্টিভ সার্জারীর ৫ দিন পূর্বে ক্লোপিডোগ্রেল সেবন বন্ধ করতে হবে। রক্তক্ষরণের ঝুঁকি কমার সাথে সাথে ক্লোপিডোগ্রেল পুনরায় সেবন শুরু করতে হবে। থ্রোম্বোটিক থ্রম্বোসাইটোপেনিক পারপিউরা পরিলক্ষিত হয় যা পরবর্তীতে প্লাজমা ফেরেসিস (প্লাজমা পরিবর্তন) এর প্রয়োজন হতে পারে। ক্লোপিডোগ্রেল বা অন্যান্য থিনোপিরিডিনের প্রতি অতিসংবেদনশীলতার ইতিহাস প্রাপ্ত রোগীদের মধ্যে ত্বকে র্যাশ, এনজিওএডেমা বা হেমাটোলজিক প্রতিক্রিয়াসহ অতিসংবেদনশীলতা পরিলক্ষিত হয়েছে।
থেরাপিউটিক ক্লাস
Anti-platelet drugs