নির্দেশনা
নেবিভোলোল নিম্নোক্ত উপসর্গে নির্দেশিত- উচ্চ রক্তচাপ অপরিহার্য উচ্চ রক্তচাপের চিকিত্সা ক্রনিক হার্ট ফেলিওর (সিএইচএফ) বয়ষ্ক রোগীদের স্ট্যান্ডার্ড থেরাপির পাশাপাশি স্থিতিশীল মাইল্ড এবং মাঝারি ক্রনিক হার্ট ফেইলর এর চিকিত্সা
Composition
ফার্মাকোলজি
নেবিভোলোল একটি বেটা এড্রেনার্জিক রিসিপ্টর ব্লকিং ওষুধ। নেবিভোলোল বেটা ১ এবং বেটা ২ এড্রোনার্জি রিসিপ্টর উভয়কেই ইনহিবিট (বন্ধ) করে। প্রাসংগিক থেরাপিউটিক ঘনত্বে নেবিভোলোলের ইনট্রিনজিক সিমপ্যাথোমাইমেটিক এবং মেমব্রেন স্ট্যাবিলাইজিং ক্রিয়া নেই। প্রাসংগিক ক্লিনিক্যাল মাত্রায় নেবিভোলোল বেটা ১ এড্রেনারজিক রিসিপ্টর ব্লকেডের কার্জকারীতা প্রদর্শন করেনা। গ্লুকুরোনাইডস সহ বিভিন্ন মেটাবোলাইট বেটাব্লকিং ক্রিয়ায় অংশগ্রহন করে। নেবিভোলোল মোড অফ অ্যাকশন (কার্যপ্রনালী) সমূহ: এটি হৃদস্পন্দন এর মাত্রা হ্রাস করে। মায়োকার্ডিয়াম এর কন্ট্রাকটাইলিটিকে (সংকোচনক্ষমতা) হ্রাস করে। এটি সেরেব্রাল ভেসোমোটর কেন্দ্র হতে প্রান্তাতিমুখী টনিক সিমপ্যাথেটিক বর্হিগমন কেও হ্রাস করে। রেনিনের কার্যকারিতাকেও নিরুদ্ধ করে। এটি রক্তনালীর প্রসারন ও প্রান্তিও (পার্শ্বিয়) রক্তনালীয় রোধকে হ্রাস করে। ফার্মাকোকাইনেটিক্স : নেবিভোলোলের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপাক ঘটে, যেমন, CYP2D6 দ্বারা গ্লুকোরোনাইডেশন এবং হাইড্রক্সিলেশন। ডি-নেবিভোলল একটি সক্রিয় আইসোমার যা CYP2D6 বিস্তৃত মেটাবোলাইজারদের মধ্যে (বেশির ভাগ জনসংখ্যার মধ্যে বিদ্যমান) একটি ১২ ঘন্টার সক্রিয় হাফ-লাইফ প্রদর্শন করে এবং দুর্বল মেটাবলাইজারদের মধ্যে এই হাফ-লাইফ ১৯ ঘন্টার। দুর্বল মেটাবোলাইজারদের মধ্যে ডি- নেবিভোলোল এর কর্যকারিতা বহুগত ভাবে অধিক লক্ষ করা যায়। প্রচলিত ভাবে যা ঘটে সেই অনুযায়ী এটি কম গুরুত্বপূর্ন তদুপরী বিভিন্ন মেটাবোলাইটস যেমন, হাইড্রক্সিল মেটাবোলাইট এবং গ্লুকোরোনাইটস (প্রধান চলমান মেটাবোলাইটস) বিটা ব্লকিং কার্যকারিতায় ভূমিকা রাখে। শোষন এবং বন্টন : সাধারন একটি মুখে সেবন যোগ্য দ্রবনের মতই নেবিভোলোলের শোষন প্রক্রিয়া। দেড় থেকে চার ঘন্টার মধ্যে নেবিভোললের সর্বোচ্চ গড় প্লাজমা ঘনমাত্রা পরিলক্ষিত হয় যথাক্রমে বিস্তৃিত মেটাবোলাইজারস এবং দুর্বল মেটাবোলাইজারসদের মধ্যে। নেবিভোলোলের ফার্মাকোকাইনেটিক প্রোফাইল/ধর্ম খাদ্য উপাদান দ্বারা পরিবর্তিত হয় না। ইহা খাদ্য গ্রহনের সাথে সেবন করা যায়। নেবিভোললের ইনভিট্রো প্লাজমা প্রোটিন বাইভিং আনুমানিক ৯৫%, যা প্রধানত এলবুমিন এর সাথে হয়ে থাকে। এই প্রক্রিয়াটি নেবিভোলোলের ঘনমাত্রায় সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়। বিপাক এবং নির্গমন প্রত্রিয়া : নেবিভোলোলের প্রধানত সরাসরি গ্লুকোরোনাইডেশন প্রক্রিয়া এবং স্বল্প মাত্রায় এন ডি অ্যালকাইলেশন ও অক্সিডেশন প্রক্রিয়া সাইক্রোম P450 2D6 হয়ে বিপাক ঘটে। এবার এক মাত্রা সেবনের পর ১৪ সি নেবিভোলল বিস্তৃত মেটাবোলাইজারদের মধ্যে মোট মাত্রায় ৩৮%, মুত্রে এবং ৪৪% মলের সাথে এবং দূর্বল মেটাবোলাইজারদের মধ্যে ৬৭% মুত্রে এবং ১৩% মলের হতে পুনরুদ্ধার করা যায়। ডিগক্সিন : নেবিভোলোল ১০মি.গ্রা. দিনে একবার ১০ দিন এবং ডিগক্সিন ০.২৫ মি.গ্রা. দিনে একবার ১০ দিন, ১৪ জন স্বাস্থ্যবান প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে প্রয়োগ করে দুটি ঔষুধেরই উল্লেখযোগ্য কোন ফার্মাকোকাইনেটিক প্রোফাইল এর পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়নি। অয়ারফেরিন : শুধুমাত্র ১০ মি.গ্রা. অয়ারফেরিনের একক মাত্রায় নেবিভোলোল ১০ মি.গ্রা. দিনে একবার মোট ১০ দিন সেবন করে দেখা গেছে নেবিডোলোলের কোন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়নি। অনুরুপভাবে অয়ারফেরিনের এন্টিকুয়াগুলেন্ট ধর্মের উপর নেবিভোলোল এর কোন প্রভাব পরিলক্ষিত হয় নি। একই ভাবে ১২ জন স্বাস্থ্যবান সেচ্ছাসেবিকে ১০ মিগ্রা অয়ারফেরিন প্রয়োগের থেকে ১৪৪ ঘন্টা পর তাদের প্রোথ্রোম্বিন টাইম এবং আই এন আর প্রোফাইল পর্যবেক্ষন করে দেখা যায় অয়ারফোরনের রক্তজমাট বাধা নিবারনকারী কার্যকারিতার উপর নেবিভোলোলের কোন প্রভাব পরিলক্ষিত হয় নি।
মাত্রা ও সেবনবিধি
নেবিভোলোল এক একজন রোগীর জন্য ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে। বেশীর ভাগ রোগীদের ক্ষেত্রেই প্রাথমিক মাত্রা হচ্ছে ৫ মি.গ্রা. দিনে একবার। খাবার আগে অথবা পরে। এটি একক ভাবে অথবা অন্য ঔষধের সাথেও প্রয়োগ করা যায়। যদি এর পরও কোনো রোগীর ক্ষেত্রে রক্তচাপ কামানোর প্রয়োজন পরে তাহলে এর মাত্রা দুই সপ্তাহের ব্যবধানে/মধ্যে ৪০ মি.গ্রা. পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যায়। ঘন ঘন মাত্রা বৃদ্ধিতে অধিক উপকারীতা পাওয়া যাবে এমনটি বলা যায় না।
প্রতিনির্দেশনা
নেবিভোলোল নিম্নলিখিত রোগীদের ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক : যে সকল রোগীদের অতিরিক্ত মৃদু হৃদকম্পন রয়েছে, যে সকল রোগীদের ক্ষেত্রে (ফাস্ট ডিগ্রি হার্টব্লক) হৃদ স্পন্দন প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, কার্ডিওজেনিক সক, ডিকমপেন-সেটেড হৃদকপাটিকার (হৃদপিন্ডের) ক্রিয়াহীনতা জনিত অবস্থা, সিক সাইনাস সিন্ড্রোম (যেখানে একটি স্থায়ী পেসমেকার স্থাপন করা হয়নি) অথবা অতিরিক্ত যকৃতের অকার্যকারীতা (চাইল্ড পউচ>বি), এবং যে সকল রোগীদের প্রতি নেবিভোলোল এবং এর অন্যান্য উপাদান সমূহের প্রতি সংবেদনশীলতা রয়েছে।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
মাথাব্যাথা, বমি বমি ভাব, এবং হৃদস্পন্দন হ্রাস পাওয়া।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
সতর্কতা
অনিয়মিত নেবিভোলোল প্রয়োগ বন্ধ করা : যে সকল করোনারী আর্টারীর অসুখ রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে নেবিভোলোল তথা অন্য বেটা ব্লকার ব্যবহার করলে তা হঠাৎ করে বন্ধ করা নিষিদ্ধ। অনিয়মিত ভাবে নেবিভোলোল ব্যবহার বন্ধ করার ক্ষেত্রে সিভিয়ার (অতিরিক্ত) হৃদপিন্ডের বেদনা, এনজিনার প্রকোপ এবং মাইওকার্ডিয়াল ইনফার্কশন এর ব্যথা ঘটেছে এবং ভেন্ট্রিকুলার এরিদমিয়া (দক্ষিন নিলয়ের হৃদস্পন্দন জনিত সমস্যা রয়েছে) দেখা দিতে পারে। এ সকল ক্ষেত্রে মাইওকার্ডিয়াল ইনফার্কশন এবং ভেল্টিকুলার এরিদমিয়া সাথে এনজিমা পেকটরিস থাকতেও পারে অথবা নাও থাকতে পারে। এমনকি যে সকল রোগীদের অভার্ট করোনারী আর্টারির ডিজজ নেই এমন রোগীদের ক্ষেত্রেও নেবিভোলোল ব্যবহার বন্ধের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরী। অন্যান্য বেটা ব্লকারের মতই, যখন নেবিভোলোল প্রয়োগ বন্ধ করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে তখন অবশ্যই রোগীর শারীরিক অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে এবং দৈহিক পরিশ্রম সিমীত করার জন্য পরামর্শ দিতে হবে। নেবিভোলোল প্রয়োগ বন্ধ ধীরে ধীরে কমপক্ষে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় নিয়ে করতে হবে যখন তা সম্ভব হবে। যদি এনজিনা আবার বৃদ্ধি পায় অথবা তীব্র করোনারী ইনসাফিসিয়েনন্সি (হৃদপিণ্ডের রক্ত প্রবাহের অপ্রতুলতা) দেখা দেয় তখন নেবিভোলোল পুন:রায় দ্রুত প্রয়োগের ব্যপারে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, অন্তত সল্পকালীন সময়ের জন্য হলেও। হৃদযন্ত্রের অকার্যকারীতা : কনজেস্টিভ হার্টফেইলের রোগীদের রক্ত সংবহন প্রক্রিয়া একটি গুরুত্বপূর্ন উপাদান হচ্ছে সিমপ্যাথেটিক স্টিসুলেশন সহায়তা করার জন্য এবং বেটা ব্লকেড মায়োকার্ডিয়াল কন্ট্রাকটাইলিটিকে (হৃদপিন্ডের অস্ত:হৃদপেশীর সংকোচন) স্তিমিত করে এবং আরো বেশী মারাত্মক হৃদযন্ত্রের অকার্যকর করতে ভূমিকা রাখে। যে সকল রোগীর পূর্ব থেকেই কনজেস্টিভ হার্টকেইলর রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে অবশ্যই নেবিভোলোল ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। এনজিনা এবং তীব্র মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন যে সকল রোগীদের এনজিনা এবং সম্প্রতি মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন রয়েছে সে সকল রোগীদের উপর নেরিনেবিভোলোল এর কোন গবেষনা হয় নাই। ব্রঙ্কস্পসটিক ভিজিজ (শ্বাস নালীর আক্ষেপ জনিত রোগ) সাধারনত, যে সকল রোগীদের শ্বাসনালীর আক্ষেপ জনিত রোগ রয়েছে তারা বেটা ব্লকার ব্যবহার করেন না। এনেস্থেশিয়া এবং বড় ধরনের শল্যচিকিৎসা : যদি অপারেশনের পূর্বে ও পরে নেবিভোলোল ব্যবহার করা হয় তবে ঐ রোগীকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষন রাখতে হবে, বিশেষ করে যে সকল রোগীদের নিম্নলিখিত চেতনা নাশক ব্যবহার করা হয়েছে যেমন- ইথার, সাইক্লোপ্রোপেন, এক ট্রাইক্লোরোইথেন। যদি বেটা ব্লকার থেরাপী বড় ধরনের সার্জারির পূর্বে বন্ধ করা হয়, তা হৃদযন্ত্রের বিকল হওয়ার প্রবনতা, দরুন রিফ্লেক্স এড্রেনার্জিক স্টিমুলাই এর প্রতি সারা দেওয়া চেতনা নাশক প্রক্রিয়া এবং সার্জারীর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় । নেবিভোলোল বেটা ব্লকিং কার্যকারীতা বেটা আগোনিষ্ট প্রয়োগে বিপরীতে হতে পারে যেমন বিউটামাইন অথবা আইসোপ্রটেরেনল। বেটা ব্লকার ব্যবহারে যদিও এই সকল রোগীদের ক্ষেত্রে সিভিয়ার নিম্ন রক্ত চাপের সম্ভাবনা রয়েছে। উপর্যপুরী হৃদস্পন্দন পুন:রায় আরম্ভ এবং সচল রাখার প্রতিবন্ধকতা (কঠিন) দেখা দিতে পারে। ডায়াবেটিস এবং হাইপোগ্লাইসেমিয়া : বহুমূত্র রোগ এবং রক্তে শর্করার পরিমান হ্রাস পাওয়া: বেটা ব্লকার ব্যবহারে অনেক ক্ষেত্রে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার অনেক উপসর্গ সমূহ পর্যবেক্ষনে প্রতিবন্ধকতা তৈরী হয় বিশেষ করে ট্রাকিকার্ডিয়া (দ্রুত হৃদস্পন্দন)। ননসিলেক্টভ বেটা ব্লকার সমূহ ইনসুলিন দ্বারা তৈরীকৃত হাইপোগ্লাইসেমিয়া করতে সহায়তা করে। এবং রক্তে গ্লুকোজের (শর্করার) পরিমান স্বাভাবিক করতে, সুস্থ করতে, এটা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি যে নেবিভোলোলের এই ধরনের কার্যকারীতা রয়েছে। তাই এ সকল রোগীর ক্ষেত্রে নেবিভোলোল সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে। থাইরোটক্সিকোসিস : বেটা ব্লকারের ব্যবহর হাইপার থায়রইডিজমের উপস্বর্গ সমূহে মাস্ক (বিভ্রম ঘটায়)। যেমন ট্যাকিকার্ডিয়া (হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত করে)। বেটা ব্লকারে সমূহের ব্যবহার হঠাৎ বন্ধ করলে হাইপার থায়রেডিজমের উপসর্গ সমূহ প্রকাশে পেতে পারে অথবা একটি হাইপার থায়রডিজম ঘটতে পারে। পার্শ্বীর রক্ত সংবহন তন্ত্রের রোগ : যে সকল রোগীর পার্শ্বীয় রক্ত সংবহন তন্ত্রের রোগ রয়েছে, সে সকল রোগীর ধমনীর রক্ত বহনের ও অপর্যাপ্ততা পরিলক্ষিত হতে পারে অথবা প্রেসিপিটেট (অধ:ক্ষেপ ঘটাতে পারে) বা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই এই সকল রোগীদের ক্ষেত্রে বেটা ব্লকার ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নন-ডাইহাইড্রোপাইরিডিন ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার : ভেরাপামিল এবং ডিলটিয়াজেম ইত্যাদি ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার এবং বেটা ব্লকার ব্যবহার করলে অবশ্যই সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে। কারন এতে উল্লেখযোগ্য নেগেটিভ (ঋনাত্মক) আয়নট্রপিক এবং কোনট্রপিক কার্যকারীতা পরিলক্ষিত হতে পারে। তাই এ সকল ক্ষেত্রে ঐ রোগীদের ECG এবং ব্লাড প্রেশার (রক্তচাপ) এর নিবিড় পর্যবেক্ষন করতে হবে।
থেরাপিউটিক ক্লাস
Beta-adrenoceptor blocking drugs, Beta-blockers