নির্দেশনা
এই প্রিপারেশন উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নির্দেশিত, যা একক ভাবে বা অন্য এন্টিহাইপারটেনসিভ ওষুধের সাথে দেয়া যায়। রক্তচাপের লক্ষ্য অর্জনের জন্য একাধিক ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক থেরাপি হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
Composition
ফার্মাকোলজি
ইহা হচ্ছে টেলমিসারটান এবং অ্যামলোডিপিন এর সমন্নিত একটি প্রোডাক্ট। টেলমিসারটান একটি নন পেপটাইড এনজিওটেনসিন রিসেপ্টর ব্লকার (এআরবি) যা নির্দিষ্ট এনজিওটেনসিন এন্টাগনিস্ট এবং এটি১ সাবটাইপ এর উপর কার্যকর। এনজিওটেনসিন তার রিসেপ্টরের সাথে বন্ধনের ফলে রক্তনালী সরু, অ্যালডোস্টেরন তৈরি এবং নির্গমনের উদ্দীপক, কার্ডিয়াক উদ্দীপনা বৃদ্ধি এবং বৃক্কে সোডিয়ামের পুণঃশোষণ করে, যা রক্ত চাপ বাড়ায় (উচ্চ রক্তচাপ)। টেলমিসারটান অনেক টিস্যুতে যেমন ভাস্কুলার পেশী এবং অ্যাড্রেনাল গ্রন্থিতে উপস্থিত এনজিওটেনসিন রিসেপ্টর কেউ এবং এনজিওটেনসিন এর কাজ করার মাধ্যমে রক্তনালী প্রসারিত করে এবং শিয়ার গতির পরিবর্তন ছাড়াই রক্ত চাপ কমায়। AT2 রিসেপ্টর থেকে AT1 রিসেন্টারের প্রতি ভ্যালসারটানের আসক্তি বেশি (প্রায় >৩০০০ গুন) কার্ডিভাস্কুলার রেগুলেশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এমন হরমোন রিসেপ্টর বা আয়ন চ্যানেলের সাথে এটা সংযুক্ত হয় না কিংবা বাঁধা প্রদান করে না। এ্যামলোডিপিন একটি ডাইহাইড্রোপিরিডিন ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার যা ভাস্কুলার এবং কার্ডিয়াক মাংসপেশীর নরম কোষগুলোতে ক্যালসিয়ামের প্রবেশে বাধা প্রদান করে। এ্যামলোডিপিন পেরিফেরাল অর্টারির ভেসোডাইলেটর যা ভাস্কুলার মাংসপেশীর উপর সরাসরি কাজ করে ফলে পেরিফেরাল ভাস্কুলার রেজিস্ট্যান্স এবং রক্তচাপ দুটোই কমে যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রারম্ভিক থেরাপি : রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে একাধিক ওষুধ প্রয়োজন হলে ইহা নির্দেশিত। সাধারনত প্রারম্ভিক মাত্রা হল প্রতিদিন একটি করে ৪০/৫ মি.গ্রা. ট্যাবলেট। যেসকল রোগীদের ক্ষেত্রে বেশী উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন সেক্ষত্রে প্রারম্ভিক মাত্রা হল প্রতিদিন একটি করে ৮০/৫ মি.গ্রা. ট্যাবলেট। ≥৭৫ বছর বয়স এবং যকৃতের রোগীদের ক্ষেত্রে ইহা নির্দেশিত নয়। এড-অন থেরাপি : রোগীদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে টেলমিসারটান বা অ্যামলোডিপিন মনোথেরাপি পর্যাপ্ত না হলে, এই কম্বিনেশন নির্দেশিত। যেসকল রোগীতে ১০ মি.গ্রা. অ্যামলোডিপিন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (যেমন: ইডিমা) ঘটায় সেক্ষেত্রে প্রতিদিন একটি করে ৪০/৫ মি.গ্রা. ট্যাবলেট গ্রহণে প্রত্যাশিত রক্তচাপের লক্ষ্য অর্জনের সাথে অ্যামলোডিপিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দূর করা সম্ভব। প্রতিটি রোগীর শারীরিক পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে ট্যাবলেটের মাত্রা নির্ধারণ করা উচিত এবং চিকিৎসা শুরুর কমপক্ষে ২ সপ্তাহ পরে মাত্রা বাড়ানো যেতে পারে। এই ট্যাবলেটের সর্বাধিক সুপারিশকৃত মাত্রা হচ্ছে ৮০/১০ মি.গ্রা. দৈনিক একবার।
প্রতিনির্দেশনা
যাদের টেলমিসারটান এবং এ্যামলোডিপিন কম্বিনেশনের যে কোন উপাদানের প্রতি অতি সংবেদনশীলতা আছে তাদের ক্ষেত্রে ইহা প্রতিনির্দেশিত। গর্ভাবস্থা এবং স্তন্যদানকালে বিলিয়ারি অবস্ট্রাক্টিভ ডিসর্ডার, তীব্র যকৃত অক্ষমতা, নিম্ন রক্তচাপ, কার্ডিয়াক শক, লেফট ভেন্ট্রিকুলার আউট ফ্লো ট্যাক্ট অবস্ট্রাকশন।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
মাথা ঘোরা, পেরিফেরাল ইডিমা, মাইগ্রেইন, মাথাব্যাথা, প্যারাএসথেসিয়া, ভারসাম্যহীনতা, ব্র্যাডিকার্ডিয়া, পালপিটেশন, হাইপোটেনশন, কাশি, পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, চুলকানি, মায়ালজিয়া, মাংসপেশীতে খিঁচুনি, পুরুষত্বহীনতা, বুকে ব্যথা, ক্লান্তি, ইডিমা ইত্যাদি।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
গর্ভাবস্থায় টেলমিসারটান এবং অ্যামলোডিপিন কম্বিনেশন ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রেগনেন্সি ক্যাটাগরি সি (প্রথম ট্রাইমেস্টারে) এবং ডি (দ্বিতীয় ও তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে)। টেলমিসারটান এবং অ্যামলোডিপিন মাতৃদুগ্ধে নিঃসরিত হয় কিনা তা জানা যায়নি। দুগ্ধশিশুর উপর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সম্ভাব্যতার কারণে, মায়ের জন্য ওষুধের গুরুত্বের কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত যে স্তন্যদান বন্ধ করবে না ওষুধ ব্যবহার বন্ধ করবে।
সতর্কতা
ভ্রূণ বা নবজাতকের ক্ষেত্রে ওষুধের এক্সপোজার এড়িয়ে চলতে হবে নিম্ন রক্তচাপ থেরাপি শুরু করার আগে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ কমিয়ে আনতে হবে। নিম্ন রক্তচাপের লক্ষণ ও উপসর্গগুলি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যকৃত বা মারাত্মক বৃক্কীয় অক্ষম রোগীদের ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে মাত্রা বাড়ানো উচিত হার্ট ফেইলিউর অবস্থার অবনতি হচ্ছে কিনা পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে এসিআই ইনহিবিটর এবং এঞ্জিওটেনসিন রিসেপ্টর ব্লকারের সাথে ব্যবহার পরিহার করতে হবে। মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন: মারাত্মক অবস্ট্রাক্টিভ করোনারী আরটারি রোগের রোগীদের ক্ষেত্রে CCB শুরু করলে মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন বা এনজাইনা হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।
থেরাপিউটিক ক্লাস
Combined antihypertensive preparations